ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে দৌলতদিয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি –

রুবেলুর,ইমরান,আতিয়ার,রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি জেলার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট। আর অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমে এ ঘাটে যানবাহন ও যাত্রীদের সংখ্যা বেড়ে যায় কয়েকগুন। যা সামাল দিতে হিমশিম খান ঘাট কর্তৃপক্ষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদের সদস্যরা। যে কারণে রাজবাড়ীতে শুরু হয়েছে ঈদ প্রস্তুতি।
এর অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে “আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে লঞ্চ-ফেরি সুষ্ঠ ভাবে চলাচল নিশ্চিতকরণ, দৌলতদিয়া ঘাটের যানজট নিয়ন্ত্রণসহ যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘœ” করার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় জানানো হয়েছে, আগত ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ অন্যান্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার আসামা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ ছাদেকুর রহমান, রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ শাহ আলম, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোঃ সাদ্দাম হোসেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট সুপারভাইজার মোহাম্মদ আলী প্রমূখ।
ঈদের আগে ও পড়ে যানবাহন যাত্রীদের পারাপারের জন্য দৌলতদিয়ায় ৬ টি ফেরি ঘাট প্রস্তুত ও ১৯টি ফেরি চলাচল করবে এবং থাকবে র‌্যাবের ১টি ও পুলিশের ৫টি অস্থায়ী ক্যাম্পসহ পর্যাপ্ত পরিমান আইন শঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। যানজট নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষনিক কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ। যাত্রীবাহি পরিবহনের পাশাপশি পচনশীল পন্যবাহী ট্রাক গুলোকে সিরিয়ালে পারাপার করা হবে। এছাড়া দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় যাত্রী পারাপারে ১৯টি ও দৌলতদিয়া-আরিচা রুটে ৩টি লঞ্চ চলাচল করবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ঈদে যাত্রী ও যানবাহনে চাপ বাড়ার আগে নতুন ২ ঘাটের পল্টুন ঠিক করা হবে এবং বহরে ২০টি ফেরি যুক্ত হবে। ফেরি, লঞ্চ, বাস, মাহেন্দ্রাসহ অন্যান্য যানবাহনে ঘরমূখো যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সরসারি জেল দেওয়া হবে। কৃত্তিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান লাইটিং, টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন। তবে যানবাহনের ভাড়ার চার্ট আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে দিতে হবে বাস মালিক ও মাহেন্দা মালিক গ্রুপকে। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক এমন কোন কাজ হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তিনি সহ তার দাপ্তরিক ম্যাজিস্ট্রেটরা মনিটরিং করবেন।

(Visited 101 times, 1 visits today)