রাজবাড়ীর চন্দনীতে নামেই “দৃষ্টিনন্দন রাস্তা”- এখন গলার কাটা –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামীণ কাঁচা একটি রাস্তা, যার নাম “দৃষ্টিনন্দন”। ওই রাস্তাটি সাম্প্রতিক সময়ে পাকা করণের কাজ শুরু করেছে সদর উপজেলা এলজিইডি। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে রাস্তাটি আর “দৃষ্টিনন্দন” নেই। দৃষ্টি থাকা ও দৃষ্টিহিন সকল মানুষের জন্যই এখন তা গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, চন্দনী ইউনিয়ন পরিষদের পাশে থাকা চাঁদ আলীর স’মিল থেকে শুরু হয়ে একই ইউনিয়নের তালতলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলো মিটার দীর্ঘ এ রাস্তাটির বয়স প্রায় ৫০ বছর। তবে ২০০৫ সালে মাটি ফেলে রাস্তাটির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করা হয় এবং সাইনবোর্ডের মাধ্যমে ওই রাস্তাটির নাম করণ করা হয় “দৃষ্টিনন্দন”। সে থেকে মানুষ এ রাস্তার নাম “দৃষ্টিনন্দন” হিসেবে ডাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ২০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ওই রাস্তার ৫ শত মিটার রাস্তা পাকা করণের শুরু করা হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে রাজবাড়ীর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমপিবি ট্রেডার্স। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি গত এক মাস ধরে এ রাস্তাটির মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়।
সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, প্রায় দুই ফুট গর্ত খোড়া হয়েছে। সেখানে ফেলা হয়নি কোন বালু বা খোয়া। সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিতে কাঁদা পানিতে একাকার হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ হাটাচলা করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস ধরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি খুড়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষ রিকশা ভ্যান চালাতে পারছে না। তারা ধান, পাট, শাক, সবজীসহ কৃষিজাত পন্য আনা নেয়া এবং মসজিদে যেতেও চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলার কারণে এখন মানুষ ভুগছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান একেএম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ওই রাস্তাটির দিয়ে মানুষ এখন চলাচল করতে পারছেনা। তারা চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। তিনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি দ্রুতগতিতে কাজ করার আহবান জানান।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমপিবি ট্রেডার্স-এর প্রপাইটার কাজী আব্দুল মামুন পিয়ারী জানান, ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে তারা ওই রাস্তায় কাজ করতে পারছে না। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কেটে গেছে কাজ পুনঃরায় শুরু করা সম্ভব হবে।
এলজিইডি’র সদর উপজেলার প্রকৌশলী স্বপন কুমার জানান, বৃষ্টির কারণে বালু ভর্তি ট্রাক সেখানে যেতে পারছে না। যে কারণে মানুষ চলাচলে কিছুটা দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

(Visited 192 times, 1 visits today)