দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ ঈদ যাত্রা ‘মসৃণ’ রাখতে রাজবাড়ীর এসপি’র ছক –

গণেশ পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ঈদকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ প্রস্তুত হচ্ছে। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে নৌ রুটে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা, ঘাট এলাকায় যানজট নিরসনে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাসহ যাত্রীর নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে প্রশাসন। তাই এবার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের নিজ গন্তব্যে পৌঁছে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে। ঘাটে এসে কাউকে কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারের ঈদে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌ রুটে যাত্রী ও গাড়ির চাপ অনেক বাড়বে। তাই ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিআইডাব্লিউটিসি, বিআইডাব্লিউটিএ, পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন। বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়াঘাট ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, এবার ঈদে নদী পার হতে আসা অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সামাল দিতে ছোট-বড় মিলে মোট ১৯টি ফেরি সার্বক্ষণিক চালু রাখা হবে। এর মধ্যে ৯টি রো রো (বড়), ছয়টি ইউটিলিটি, তিনটি কে-টাইপ ও একটি মিডিয়াম ফেরি। পাশাপাশি যাত্রীদুর্ভোগ লাঘবে ঈদের তিন দিন আগে থেকে পরের তিন দিন পর্যন্ত নৌপথে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া অন্য সব ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকবে। চলাচলকারী কোনো ফেরি বিকল হলে সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামত করার জন্য পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতি প্রস্তুত থাকবে। এ জন্য ওই মেরামত কারখানার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি এরই মধ্যে বাতিল করা হয়েছে। বিআইডাব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, পদ্মায় পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে কোনো নাব্যতা সংকট নেই। তাই আসন্ন ঈদে পূর্ণ লোড নিয়ে ফেরিগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, আসন্ন ঈদে অতিরিক্ত যাত্রী পারাপারের জন্য এ নৌপথে ৩৩টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। লঞ্চগুলো সার্বক্ষণিক সচল থেকে যাত্রী পারাপার করবে। এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাই এবার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে পৌঁছে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবে। লঞ্চ ও বাসে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধে উভয় ঘাট এলাকায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করবে।’
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি (বিপিএম) বলেন, ‘এবার ঈদের আগে ঘরমুখো ও ঈদের পরে কর্মমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দৌলতদিয়াঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনালসহ মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ট্রাফিক পুলিশ ও র্যাব থাকবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক সেখানে উপস্থিত থেকে তাঁরা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরদারি করবেন। এ ছাড়া নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন ও রাতের বিভিন্ন সময়ে স্পিডবোট নিয়ে নদী টহল দেবে নৌ পুলিশ।

(Visited 94 times, 1 visits today)