রাজবাড়ীতে টেলিফোন গ্রাহকদের দূর্ভোগ চরমে ॥ তদারকির অভাব –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

বিটিসিএল লিঃ এর রাজবাড়ী জেলার টেলিফোন লাইনের বেহাল দশায় গ্রাহকের ভোগান্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজবাড়ী টেলিফোন এ´চেঞ্জের টেলিযোগাযোগ লাইনে এনডব্লিউডি/ ইন্টারনেট/ টেলিটক/ এডিএসএল সংযোগ প্রায়শঃই থাকেনা। মাসের অর্ধেক সময়েই নানা সমস্যার অজুহাতে এনডব্লিউডি/ ইন্টারনেট/ টেলিটক/ এডিএসএল লাইন বন্ধ থাকে। সর্বশেষ গত ১৩ মে, ২০১৮তারিখ হতে ২০ মে, ২০১৮ তারিখ বিকেল পর্যন্ত একটানা রাজবাড়ীতে এনডব্লিউডি/ ইন্টারনেট/টেলিটক/এডিএসএল লাইন বন্ধ রয়েছে। এর কোন পরিসংখ্যান বা তথ্যাদি রাজবাড়ী টেলিফোন এ´চেঞ্জ কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেননা। বিষয়টি জেলা প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসনের কেউ তদারিক করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রায়শঃই এনডব্লিউডি/ইন্টারনেট/টেলিটক/এডিএসএল লাইন না থাকায় জরুরী প্রয়োজনে ঢাকাসহ অপরাপর জেলাসমূহে টেলিফোন সংযোগ, টেলিফোন হতে মোবাইলে সংযোগ এবং ইন্টারনেট সংযোগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিড়ম¦নায় পড়তে হচ্ছে। এনডব্লিউডি লাইন না থাকায় বিটিসিএল এর এডিএসএল ইন্টারনেট গ্রাহকরাও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এডিএসএল ইন্টারনেটসহ সরকারি দপ্তরসমূহের ইন্টারনেট লাইন অধিকাংশ সময়ে থাকে না। হঠাৎ লাইন পাওয়া গেলেও স্পীড থাকে অনেক কম। এ ব্যাপারে রাজবাড়ী বিটিসিএল এর কর্মকর্তা/কর্মচারিরা কিছুই বলতে পারেননা। ঢাকায় যোগাযোগ করেন বলেই তারা দায়িত¦ সমাধা করেন। এডিএসএল ব্রডব্যান্ড লাইনের মাসিক বিল নিয়মিত পরিশোধ করা সতে¦ও লাইন না পাওয়ায় এটি এখন গ্রাহকদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।
টেলিফোন লাইনে সমস্যার বিষয়ে টেলিফোন এ´চেঞ্জে যোগাযোগ করা হলে, কখনও মাইক্রোওয়েভ লিংকে সমস্যা কিংবা অপটিক্যাল ফাইবার কাটা পড়ার অজুহাত দিয়ে গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেয়া হয়। মাসের অর্ধেক সময়ে লাইন না পেলেও গ্রাহকদের প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে রাজবাড়ী টেলিফোন এ´চেঞ্জের গ্রাহক সংখ্যা ১৭ শত থেকে নেমে ৯ শতে এসে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা এবং সেবার মান নি¤œগামী হওয়ার কারণে গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
শুধু জেলা সদরে নয়, জেলার অপরাপর উপজেলাগুলোতেও টেলিফোন লাইনের বেহাল দশা বিরাজ করছে। অপরদিকে, বিগত ২০১০ সাল থেকে নবগঠিত কালুখালী উপজেলার কার্যক্রম শুরু করা হলেও কালুখালী উপজেলায় অদ্যাবধি টেলিফোন এ´চেঞ্জ স্থাপিত হয়নি। ফলে, কালুখালী উপজেলার সাথে রাজধানী ঢাকাসহ অপরাপর জেলার সাথে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও শুরু হয়নি। এখানে ডিজিটাল এ´চেঞ্জ স্থাপনের বিষয়ে কারও কোন উদ্যোগ লক্ষ্যণীয় নয়। কারো কোন মাথা ব্যথা আছে বলে মনেও হয়না।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ইতোপূর্বে ২০০৩ সালের ৮ অক্টোবর টিএন্ডটির সিকিউরিটি এন্ড সার্ভিলেন্স টিমের জেনারেল ম্যানেজার কর্নেল নিয়াজ উর রহিম এবং পরিচালক (পরিদর্শন) মোঃ কবির হোসেন ভুইয়া রাজবাড়ীতে এসে এ´চেঞ্জের পাশের বিল্ডিং থেকে অবৈধভাবে ৪৮ টি টেলিফোন লাইন দিয়ে স্থাপিত ভিসেট (ভূউপগ্রহ কেন্দ্র) স্থাপনের বিষয়টি উদঘাটন করেন। ঐ সময়ে উক্ত উদ্ধারকারী দল প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের ভিসেট সামগ্রী উদ্ধার করেন। তারা দেখতে পান, টেলিফোন এক¥চেঞ্জ এর সুইচ রুম থেকে মাটির নীচ দিয়ে ক্যাবলের মাধ্যমে ৪৮ টি লাইন ভিসেট (ভুউপগ্রহ কেন্দ্র) এর মাধ্যমে সংযুক্ত ছিল। অতি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস¦ ফাঁকি দিয়ে উক্ত ভুউপগ্রহ কেন্দ্রের মাধ্যমে সিলেট-চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে লন্ডন, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের এবং বিভিন্ন জেলায় টেলিফোন সংযোগ স্থাপন করে রমরমা অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হতো। এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা রুজু হলে কয়েকজন ধরা পড়ে এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী স¦পন কুমার পাল পালিয়ে যান। তিনি এখনও পলাতক।
রাজবাড়ীতে টেলিফোন লাইনের বেহাল দশায় একচেঞ্জের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সাথে অবৈধ কোন ভিওআইপি কিংবা অন্য কোন উপায়ে লাইন পরিচালনা করা হচ্ছে কিনা অনেক গ্রাহক তা খতিয়ে দেখতে দাবী জানিয়েছেন।

(Visited 92 times, 1 visits today)