রাজবাড়ীর এসপি’র নির্দেশনায় এক দিনেই উদ্ঘাটন হলো আলাদীপুরের আঞ্জু হত্যার রহস্য-

 

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলির দিক নির্দেশনায় মাত্র এক দিনের মধ্যেই উদ্ঘাটন হয়েছে রাজবাড়ীর সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে থাকা ইউপি চেয়ারম্যানের মেহগনী বাগান থেকে আঞ্জু বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে শ^াসরোধে হত্যা করার রহস্যা। ওই ঘটনার পর পুলিশ আজ মঙ্গলবার সকালে নুর আলম শেখ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ওই যুবক আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজবাড়ীর জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফুজ্জামানের আদালতে আঞ্জু বেগমকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নুর আলম সেখ একই ইউনিয়নের আলাদীপুর মাজারপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ সেখের ছেলে। সে কাঠ মিন্ত্রীর কাজসহ অন্যান্য শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।
রাজবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই জাহিদুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর পরই তারা আসামি গ্রেপ্তার করতে তৎপর হন। স্থানীয় আলাদীপুর বাজারে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখে যায়, গত রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাজারের ঘোরাফেরা করে আঞ্জু বেগম। ওই সময় নুর আলম শেখ তাকে ইশারায় ডেকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে থানা পুলিশের সদস্যরা আজ ভোরে নুর আলমকে তার নিজবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দিতে বলেছে “ ওই মহিলা টাকার বিনিময়ে খারাপ কাজ করে। আমি ইশারায় ওই মহিলাকে ইউনিয়ন পরিষদের বাগানে নিয়ে যাই এবং ওই মহিলা স্বেচ্ছায় আমার সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হয়। আমি ওই কর্মসেরে একশত টাকা দেই। কিন্তু সে আরো একশত টাকা দাবী করে। তখন কথাকাটাকাটি হয়। সে জোওে জোরে কথা বলে। আমি ধরা পড়ার ভয়তে তাকে বলি আরো একশত টাকা দিবো, তবে আবার যৌনকর্ম করতে হবে। তখন সে আবার চিৎকার শুরু করে। আমি তখন তার পিঠের উপর বসে গলা চেপে ধরি এবং কাপড় পেচিয়ে শ^াসরোধে হত্যা করে তারাতারি বাড়ী চলে যাই।
রাজবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) কামাল হোসেন ভুইয়া বলেন, ওই ঘটনায় আজ সকালে আঞ্জু বেগমের জমজ ভাই আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত ৫টি কনডম উদ্ধারও করা হয়েছে।
আঞ্জু বেগমের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক তারেক জানান, তারা মূলত আঞ্জু বেগমের লাশের দু’টি বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তাহলো মৃত্যুর কারণ এবং জোর পূর্বক ধর্ষণ হয়েছে কি না তা নির্নয়। এ ক্ষেত্রে আঞ্জুকে শ^াসরোধে হত্যা করার বিষয়টি তারা পরিস্কার হতে পেরেছেন। সেই সাথে আঞ্জুর শাররীক আলামত দেখে বুঝতে পেরেছেন তাকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করা হতে পারে। তবে ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে গণধর্ষণ হয়েছে কি না এবং কত জন ওই ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল তা বলা সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের ধারনা আঞ্জু কোন ভাবে ওই দূর্বৃত্তদের চিনে ফেলেছিলো যে কারণে তাকে তারা হত্যা করে। স্থানীয়দের দাবী ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যবহৃত কনডম এবং আঞ্জুর শরীর থেকে পাওয়া আলামতের ডিএনএ রিপোর্ট মেলানো সম্ভব হলে ধর্ষণকারীদের ও সনাক্ত করা সম্ভব হবে।

(Visited 1,997 times, 1 visits today)