রাজবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো খানা-খন্দ আর ধুলাবালুতে একাকার –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিতে নর্দমা আর শুকনা মৌসুমে খানা-খন্দের পাশাপাশি ধুলাই অন্ধকার, এটাই এখন রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী-দৌলতদিয়া, রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের হাল। বেহাল দশায় থাকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির বর্তমান চিত্র দেখে বোঝার উপায় নেই এটা একটা পাকা সড়ক। বহিরাগত কোন যাত্রী দেখলে বলবেন, এটা কটা গ্রামীণ কাঁচা এ রাস্তা। যা দেখ-ভাল করার কেউ নেই।
সরজমিনে দেখা গেছে, গুরুত্ব পূর্ণ এই সড়কটির সিংহ ভাগ স্থান খানা-খন্দে উচু নিচু হয়ে গেছে। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কোন রকমে ইট ও বালু ফেলে সড়কটি সচল রাখা হয়েছে। তবে অসংখ্য গর্তের কারণে যান চলাচল হচ্ছে বিঘিœত। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দূর্ঘটনা। এ সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পন্য বোঝাই ট্রাকের যান্ত্রাংশ ভেঙ্গে বিকল হতে দেখা যাচ্ছে। সেই সাথে ধুলা-বালিতে ভরপুর থাকায় এ সড়কের যানবাহনে থাকা যাত্রীদের নিশ^াস নিতেও কষ্ট পেতে হচ্ছে। কত দিনে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে তা বলতে পারছে না কেউ।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থাকা ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম ও টোকন বলেন, এ সমস্যা আজকের নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে। দীর্ঘ তালবাহানা শেষে সড়কের কাজ শুরু করা হলেও চলছে ধির গতিতে। ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকানী ও বাড়ীর মানুষদের অবস্থা শোচনীয়। তারা ঘরে ও বারান্দাতে রাখতে পারেননা কোন খাবার। কিছু সময়ের মধ্যে তা ধালাবালুতে পূর্ণ হয়ে যায়। সড়কের পাশের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা শ^াস কষ্টসহ নানা ধরণের অসুখ বিশুখের শিকার হচ্ছেন। দোকানের মালামালের উপরও ধুলার স্তুপ জমছে। যে কারণে কেউ কেউ মটর দিয়ে পানি তুলে পাইপের সাহায্যে তা সড়কে ফেলছে। এসে সাময়ীক সময়ের জন্য ধুলা উড়াব বন্ধ হলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই তা শুকিয়ে উঠড়ে শুরু করে।
এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ট্রাক চালক আকতার হোসেন, মাইক্রেবাস চালক ফজলুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা চরম দূর্ভোগের ব্যাপার। যান চালাতে ও চলাচল করতে তাদের খুব খব কষ্ঠ হচ্ছে। অসুস্থ কোন মানুষ এ সড়ক দিয়ে যান বাহণে যাওয়া অথবা আসা করলে সে আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে যাচ্ছে। একটি বাস অথবা ট্রাক সড়ক দিয়ে চললেই সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার ঘূর্ণি। ওই সময় নিশ^াস নেয়াই হয় কষ্টকর। সেই সাথে খানা-খন্দে যানবাহনের চাকা আটকে হচ্ছে যান্ত্রিকত্রুটি। গচ্ছা যাচ্ছে অর্থ।
রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার, ছাত্র আবু রায়হান বলেন, তারা বাসা থেকে গোসল করে বই খাতা নিয়ে বের হলেও বিদ্যালয়ে যেতে যেতে তাদেও চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। পুরো সড়কে এতো বেশি ধুলা-বালু ওড়ে যে শরীরের উপর দিয়ে এক স্তর লাল আবরন পরে যায়। বিদ্যালয়ে গেলেও শান্তি নাই। জানালা ও দরোজা দিয়ে ধুলা প্রবেশ করে সিট ব্রেন্সিতেও স্তর পরে। জামা-কাপড় নোংড়া হয় এবং বাড়ীতে ওই অবস্থায় ফিরলে মায়ের বকুনিও খেতে হয়।
অভিভাবক আকলিমা খাতুন বলেন, শুধু তার মেয়েরই নয় ওই বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীই ধুলা-বালু জনিত কারণে সৃষ্টি হওয়া এ্যালার্জি জাতীয় অসুখে ভুগতে শুরু করেছে। ক্লাস গুলোতে উপস্থিতিও কমে গেছে। কবে যে এ সমস্যা থেকে আমারা মুক্ত হবো তা কেউ বলতে পারছে না।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ অকবর নিবির বলেন,ধুলা বালির কারনে সাধরনত ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে এবং এলার্জি জনিত ঠান্ডা, কাশি, চোখের সমস্যা হয়ে থাকে। সেই সাথে ধুলা বালুর কারণে শিশুদের রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। তবে এ থেকে পরিত্রানের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা প্রয়োজন। তাতে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যায়।
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী- ফরিদপুর সড়কের ৭.৭০ কিলো মিটার অংশ ৪৭ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার টাকা, শহরের ফোরলোন তৈরীর ৪.১ কিলো মিটার সড়ক ৫৪ কোটি টাকা এবং জেলা সদরের বাগমারা -জৌকুড়ার ৬.৫ কিলো সড়ক প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বর্ষা মৌসুমের আগেই সিংহ ভাগ কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই কাজ সম্পূর্ণ হলে মানুষের দূর্ভোগ কমে যাবে।

(Visited 116 times, 1 visits today)