ফরিদপুরে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনা “বাড়ী ফিরে আসা হলো না মাসুদ রানার” –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

“মাসুদ রানা” কল্পকাহিনীর একজন সাহসী গোয়েন্দা হলেও রাজবাড়ীর মোঃ মাসুদ রানা (৪০) তেমনটি নন। তিনি একজন অতিসাধারণ সরকারী কর্মচারী। জীবিকার তাগিদে কর্মস্থালে গিয়েও আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লাশ হয়ে ফিরতে হলো তার। এর আগে গতকাল সকাল সকাল ১১টার দিকে রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদী রেলগেট এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রাণ যায়। ওই দুর্ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকসহ আরো ৫ জনের প্রাণ যায়।
নিহতের স্বজনরা জানান, কলকাতা থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাস ঘটনাস্থলে বিপরীতমুখী মাসুদ রানার মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে রাস্তার বাঁ পাশে থাকা একটি গাছে গিয়ে আঘাত করলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। গাছের সঙ্গে আঘাত লাগায় বাসটির সামনের অংশ এবং মাসুদ রানার মোটরসাইকেলসহ তিনি নিতে ঢুকে যান।
আজ সন্ধ্যায় রাজবাড়ী জেলা শহরের ড্রাইআইস ফ্যাক্টরী গ্রামের মাসুদ রানার বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায়, শুধুই কান্নার রোল। রানার বৃদ্ধ মা নাসরিন আক্তার সন্তানকে হারিয়ে বুকভাটা আতœনাত করছেন। অপর দিকে, রানা তার স্ত্রী রিনা খাতুন তার দশম শ্রেণেিত পড়–য়া ছেলে রাতুল মোল্লা ও পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া ছেলে কে বুকে জড়িয়ে ধরে করছেন আহাজারী। তাদের কান্না দেখে, প্রতিবেশিদেরও চোখে চল মুছতে দেখা যায়।
কান্নারত রানার ছোট ভাই মেহেদী হাসান অভি বলেন, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার খান মারা গেছেন। তারা চার ভাই ও ১ বোনের সংসারে বড় ভাই মাসুদ রানাই ছিলো সংসার প্রধান। মাসুদ রানা ফরিদপুর সদর উপজেলার মাচ্চর ইউনিয়নের ধুলদী রেলগেট এলাকায় গড়ে ওঠা “ধুলদী ১০০ মেঘাওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র”-এর সাহায্যকারী পদে চুকুরী করতেন। আজ সকালে তিনি বাসা থেকে কর্মস্থলে যান। কাজের ফাঁকে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে পাশ^বর্তী পেট্রোল পাম্পে যান এবং সেখান থেকে মোটর সাইকেলে তেল ভরে পুনরায় অফিসে ফেরার মুহুতেই ওই দূর্ঘটনা ঘটে। ময়না তদন্তের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লাশ তাদের বাড়ীতে আনা হয়। রাতেই লাশ জেলা শহরের ২নং ভবানীপুর গোরস্থানে দাফন করা হয়।

(Visited 1,093 times, 1 visits today)