“গোয়ালন্দে গণ গ্রন্থাগারটি অকার্যকর” অবহেলায় সরকারী ২২ লাখ টাকার ভবন –

শফিকুল ইসলাম শামীম, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

জমি ১৬ শতাংশ। মালিক অধ্যাপিকা জাহারানা বেগম। সরকারী ২২লাখ টাকায় ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগার। সরকারী ভাবে প্রতিবছর বরাদ্ধ পায় ১০ হাজার টাকা। সরকারী বরাদ্ধের প্রায় ৭হাজার বিভিন্ন প্রকার সুনামধন্য লেখকের লেখা বই রয়েছে। বিনা বেতনে আছে ৪জন কর্মচারী। কিন্ত গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগারে সারাদিনেও বই পড়ার কোন পাঠক দেখা যায় না। ২৪বছরেও ২৪জন পাঠকের দেখা মেলেনি।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ পৌরসভায় ৪নং ওয়ার্ডে ১৬ শতাংশ জমি। জমিতে অবস্থিত হয়েছে গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগার। ১৯৯৩ সালে তৎকালীন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহারানা বেগম নিজের নামের জমিতে শ্বশুরের নামে প্রতিষ্ঠা করেন আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগার। সেই জমিতে ১৯৯৪ সালে সরকারী ২২লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতলা ভবন উদ্বোধন করেন। এবং গণ গ্রন্থাগারের সকল প্রকার আববাবপত্র দেন। নিজের টাকায় সাড়ে সাত শত বই এবং সরকারী ভাবে ৬হাজার বই দেওয়া হয়। সব মিলে প্রায় ৭হাজার বই রয়েছে। বইগুলো ১৪টি আলমারীতে নিচ তলায় এলোমেলো ভাবে রয়েছে। ২৪বছরেও বইগুলো না খোলার কারণে ময়লা পরে রয়েছে। ২য় তলায় একটি হল রুম রয়েছে। হল রুমে কিছু চেয়ার রয়েছে। গণ গ্রন্থাগারে ২টি রুম উপজেলা মডেল রিসোর্স সেন্টার কাম-সাব অফিস ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর কাছে ভাড়া দেওয়া রয়েছে। হল রুমটি ভাড়া দেওয়া হয়। বার্ষিক সরকারী ভাবে বই ও ভবন রং করার জন্য ১০হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। গণ গ্রন্থাগারে বিনা বেতনে প্রতিষ্ঠানের সভাপতির নিজস্ব লোক লাইব্রেরিয়ান হিসেবে মোঃ আমজাদ হোসেন, অফিস সহকারী ফরিদ হোসেন, পিয়ন জয়উদ্দিন ও ঝাঁড়–দা রতন নামের এক ব্যক্তি সহ ৪জন কর্মচারী রয়েছে। গণ গ্রন্থাগারের অধ্যাপিকা জাহারানা বেগম সভাপতি ও খন্দকার আব্দুল মহিত হিরা সাধারন সম্পাদক। তবে, ২৪ বছরেও গ্রন্থাগারের কমিটির কোন পরিবর্তন হয়নি।
গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, ১৯৯৩ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জরীয়ে আছি। আমরা চার জন এখন খুব মানবেতর জীবন-যাপন করছি। আমরা সরকার বা এই প্রতিষ্ঠান ও কমিটির মাধ্যমে কোন অনুদান পাই না। কোন আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয় না। এই ভবনটি এখন জরাজীন্ন অবস্থায় পরে আছে। সরকারের কাছে আবেদন করবো এই চারটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেখভাল করেন। যেন এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়।
গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও একটি বেসরকারী স্কুলের শিক্ষক গোলাম মুর্তুজা হেলাল বলেন, গণ গ্রন্থাগারে ভবন আছে, বই আছে কিন্ত পাঠক নাই। কেন নাই? এই গণ গ্রন্থাগার জরাজীন্ন অবস্থা। তবে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস রাখি এই সরকার প্রতিষ্ঠানটি সচল করার জন্য যা যা করনীয় তা করবেন।
গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগারের সাধারন সম্পাদক খন্দকার আব্দুল মহিত হিরা বলেন, গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগারে ৭হাজারের বেশি বই আছে। খুব মূল্যবান বই। কিন্ত দুই যুগ এখানে চারজন ব্যক্তি বেনাবেতনে শ্রম দিয়ে আসছে। সেই জন্য বিঘিœত হয়ে আসছে। লাইব্রেরির মূল উদ্দেশ্য লেখা-পড়া করা। মানুষ আসবে পড়া-লেখা করবে। প্রতিষ্ঠানের চার জন কর্মী কোন বেতন না পাওয়ার কারণে এর পাশা-পাশি অন্য কর্ম করে জীবিকার তাগিদে। এদের যদি কোন ব্যবস্থা হতো তাহলে লাইব্রেরিটা পুরোপুরি কার্যকর হতো।
রাজবাড়ী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার জানান, গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগার দীর্ঘদিন যাবৎ পরে ছিল। আমি এগুলোতে হাত দিয়েছি। এলাকার জনগনকে নিয়েই আমি এটা সংস্কর করে মানুষের কাছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। গোয়ালন্দ আহমেদ আলী মৃধা গণ গ্রন্থাগার যাতে চালু হয় এলাকার ছাত্র-ছাত্রী এবং সুশীল সমাজের লোকজন আসতে পারে বসতে পারে সেজন্য ইতিমধ্যে আমি আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সংস্ককরনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ভবিষ্যতে আমি এটা গ্রহন যোগ্যতায় আনার জন্য এবং জনগন যাতে এখানে আসে সেই পরিবেশ তৈরি করার জন্য চেষ্টা করবো।

(Visited 50 times, 1 visits today)