পাংশায় নদী খননের প্রতিবাদে পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় মানববন্ধন –

মাসুদ রেজা শিশির/এস,কে পাল, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ও রতনদিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত পদ্মা নদী খননের প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন করেছে।  সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে ১টা পর্যন্ত দেড় ঘন্টা ব্যাপী হাবাসপুর ইউনিয়নের পূর্ব চর আফড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে হাবাসপুর, কালিকাপুর ও রতনদিয়া ইউনিয়নের ৭ সহ¯্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কালিকাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আতিউর রহমান, হাবাসপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক বিশ্বাস, ইউপি সদস্য মুকুল হোসেন, ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাবাসপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ফজলুল হক বিশ্বাস। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন, কালুখালী উপজেলার কালিকাপুর ও রতনদিয়া ইউনিয়নের পদ্মা নদী ড্রেজার দিয়ে খনন করার কারণে ৩০টির অধিক গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে এলাকার ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনতিবিলম্বে এলাকাবাসী ড্রেজার দিয়ে নদী খনন কাজ বন্ধের দাবী জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো জানান, পদ্মা তীরবর্তী এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী চর এলাকায় কৃষি জমিতে চাষাবাদের জীবিকা নির্বাহ করে। নদী ভাঙ্গন শুরু হলে এসব চাষাবাদের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এতে এসব এলাকার সাধারণ মানুষ বেকার হয়ে পড়বে। নদীতে ড্রেজার দিয়ে নদী খনন কাজ বন্ধ না হলে এসব এলাকার বাসিন্দা বেকারত্বের অভিশাপে পড়বে। সেই সাথে দারিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে পিষ্ঠ হবে। ড্রেজার দিয়ে নদী খনন করার কারনে এসব এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে এসব এলাকার কোমলমতি শিশুরা সুশিক্ষা ও ধর্মীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়া থেকে ছিটকে পড়বে। নদী খনন কাজ বন্ধ করে পদ্মা তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টি কামনা করেন। মানববন্ধনে ১০টি আলাদা আলাদা গ্রামের ব্যানার ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করে। হাবাসপুর,কালিকাপুর,রতনদিয়া ইউনিয়নের ৭ হাজারের অধিক লোক মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন।

(Visited 36 times, 1 visits today)