মহাসড়কের গাড়ী কোর্ট মাঠে গোয়ালন্দে ওজন স্কেলে দীর্ঘ যানজট –

শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা কোট চত্ত্বর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এতে করে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আটকে থেকে দূর্ভোগের শিকার হন যাত্রী ও চালকেরা।
গত বুধবার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় হাইওয়ে পুলিশ কয়েকশত মালবাহী যানবাহন আটকে রাখে। বৃহস্পতিবার সকালে অপরিকল্পিত ভাবে একযোগে এ যানবাহন গুলো ছেড়ে দেওয়ায় ওজন স্কেল এলাকায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়। তাছাড়া এ এলাকার মহাসড়ক অত্যন্ত সরু।
বিআইডব্লিটিসি ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিনগত রাতে দৌলতদিয়া-পাঁটুরিয়া নৌরুটে কুয়াশা না থাকায় ফেরী সহ সকল নৌযান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ফলে বৃহস্পতিবার দৌলতদিয়া ঘাট বা এ এলাকায় যানজট হওয়ার কথা নয়। তবে বুধবার ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের বাৎসরিক ওরশ ফেরৎ এবং মানিকগঞ্জের সিদ্দিকনগর দরবার শরীফের ইজতেমা গামী যানবাহনের চাপে ঘাট এলাকায় দুপুরের পর থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় ওই গাড়ীগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পার করার জন্য গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহন আটকে রাখে আহলাদীপুর হাইওয়ে পুলিশ। আটকে থাকা যানবাহনগুলোকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিক থেকে পর্যায়ক্রমে ছাড়তে থাকে পুলিশ।
এ দিকে গোয়ালন্দ উপজেলা কোট চত্ত্বর এলাকায় আসলে ট্রাক ও কাভার ভ্যান গুলোকে স্কেলে ওজন করার জন্য আটকে দেয় নিয়োজিত থাকা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। এক একটি গাড়ীর ওজন নির্ণয় এবং ঘাটের টোল রশিদ প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেকটা সময় লাগায় আটকে পড়তে থাকে যানবাহন। বেলা ১০টা নাগাদ আটকে থাকা যানবাহন অন্তত ৩ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়। এ পর্যায়ে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ফেরী পাড় হয়ে আসা যানবাহনগুলো এ এলাকায় এসে আটকা পড়তে থাকে। সৃষ্টি হয় উভয় মুখী তীব্র যানজটের। এ অবস্থায় উপায় না পেয়ে স্কেলের কর্তব্যরত হাইওয়ে পুলিশের কনস্টেবল রবিউল ইসলাম লাইনে আটকে থাকা মালবাহী অন্তত অর্ধশত ট্রাক ও কাভার ভ্যানকে ওজন পরিমাপ না করেই উপজেলা কোট মাঠে প্রবেশ করান। কিন্তু তাতেও অবস্থার উন্নতি হয় না। এ পর্যায়ে আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. নবী হোসেন সহ একদল পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছান। তারা চেষ্টা চালিয়ে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সক্ষম হন।
সরজমিনে আলাপকালে আটকে থাকা ট্রাক চালক এরশাদ আলী, আক্কাছ মিয়া, মামুন হোসেন সহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ সাধারণ ঘাট এলাকায় যোগাযোগ করে গোয়ালন্দ মোড় এলাকা থেকে আটকে থাকা যানবাহনগুলোকে পর্যায়ক্রমে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আজ সকালে তা না করে একযোগে যানবাহনগুলো ছেড়ে দেয়। এক্ষেত্রে চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা উৎকোচ আদায় করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। যে কারণে ঘাটে যানজট না থাকলেও স্কেল এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
স্কেলে কর্মরত বিআইডব্লিটিসি’র কম্পিউটার অপারেটর সোহেল রানা জানান, স্কেলে ওজন পরিমাপ করে স্লিপ দেওয়া এবং ঘাটের পার্কিং টোল আদায় করতে এখানে প্রতিটি যানবাহনের অনেকটা সময় লাগে। একযোগে যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়ায় স্কেলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. নবী হোসেন জানান, আগের দিন ওরশের যানবাহনের জন্য মালবাহীগুলোকে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় আটকে রাখা হয়। সকালের দিকে একযোগে যানবাহনগুলো ছাড়া হয়। তবে স্কেলে পরিমাপ ও টোল আদায়ে সময় বেশি লাগায় এখানে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।

(Visited 30 times, 1 visits today)