১৪ দিনের মধ্যেই পাংশা চাঞ্চল্যকর বালু ব্যবসায়ী শাফিন হত্যার ঘটনা উদ্ঘাটন-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

পাত্রি দেখানোর কথা বলে নিয়ে এসে পিটিয়ে হত্যা করা কথা আদালতের কাছে
স্বীকার করলো গ্রেপ্তার হওয়া ইউপি মেম্বার ॥ মূল বিরোধ বালুর ব্যবসা

# শাফিনকে হত্যা করেছে ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ও ভাতিজাসহ ৮/১০ জন

 

মাত্র ১৪ দিনের মধ্যেই রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বেড়ি বাঁধ এলাকায় সংঘঠিত বালু ব্যবসায়ী শাফিন খান হত্যার ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। সেই সাথে এ হত্যা’র সাথে জড়িতের চিহ্নত করাসহ করা কি উদ্দেশ্যে কেন শাফিনকে হত্যা করেছে তা জানা সম্ভব হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ফরহাদ মামুনের কাছে ওই হত্যাকান্ডের আদ্যপান্ত জানিয়ে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া রুহুল আমিন প্রমাণিক ওরফে রুহুল মেম্বার (৪২)। রুহুল মেম্বার কুষ্টিয়া জেলার খোকশা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য। সে আমবাড়িয়া গ্রামের মৃতঃ ইব্রাহিম প্রমাণিকের ছেলে।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ীর পাংশা থানার এসআই শাহিন মোল্লা বলেন, প্রায় দুই ঘন্টা ধরে আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন রুহুল মেম্বার। রুহুল আদালতের কাছে বলেছে, নিহত শাফিন খান (৪০) কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার আমবাড়ীয়া গ্রামের আবু বকর খানের ছেলে। দীর্ঘ দিন বিদেশ থাকার পর সাম্প্রতিক সময়ে শাফিন গ্রামের বাড়ীতে ফিরে আসেন। তবে বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর এক শিশু সন্তানের জনক শাফিনের সাথে তার স্ত্রীর বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং ওই বিরোধের অংশ হিসেবে স্ত্রী’র সাথে শাফিনের ডিভোর্স হয়। যে কারণে শাফিন নতুন করে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে পাত্রি দেখা-দেখিন কাজ শুরু করে। সেই সাথে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে নিজ বাড়ীর আশপাশ এলাকায় ড্রেজার কিনে বালু উত্তোলন ও বিক্রির ব্যবসা শুরু করে। বালুর ব্যবসা শুরুর পর কুষ্টিয়া জেলার খোকশা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লাসহ সবুজ, সাগর ও সুমনসহ বেশ কয়েক জন নিহত শাফিনের ড্রেজারের পাইপ কেটে ফেলে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। ওই মারামারি সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আরিফ মোল্লা’র হাত জখম হয়। এতে আরিফ ক্ষিপ্ত হয় এবং শাফিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যার অংশ হিসেবে তারা শাফিনের সাথে ইউপি মেম্বার রুহুলের বন্ধুত্ব সম্পর্কের বিষয়টি মাথায় আনে এবং তারা ইউপি মেম্বার রুহুলকে বলে যে কোন ভাবেই হোক শাফিনকে নির্জন জায়গায় নিয়ে যেতে। রুহুল মেম্বার শাফিনকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকায় পাত্রি দেখতে যাবার প্রস্তাব দেন। এতে শাফিন রাজি হয়। গত ১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৩টার দিকে শাফিন রুহুল মেম্বারের বাড়ীতে যায় এবং রুহুল মেম্বারের মোটরসাইকেলে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তারা হাবাসপুর ইউনিয়নের সেগ্রাম কালিতলা বাজারে বসে চা খায়। এক ফাঁকে রুহুল মেম্বার স্থানীয় সুজা মাষ্টারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে আমবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা আরিফ মোল্লাকে বলেন, সন্ধ্যার পর সে শাফিনকে নিয়ে হাবাসপুর বেঁড়ি বাঁধ এলাকায় আসবে তারা যেন প্রস্তুত থাকে। এর পর সেখান থেকে তারা যান হাবাসপুর বাজারে। ওই বাজারে বসে তারা আরেক দফা চা”পান করে এবং স্থানীয় বেশ কয়েক জনের সাথে কথাও বলে। ওই দিন রাত ৮টার তারা পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চরপাড়া বেড়ি বাঁধ এলাকায় পৌছায়। এ সময় আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লাসহ সবুজ, সাগর ও সুমনসহ ৮/১০ জন লাঠিশোঠা দিয়ে শাফিনের মাথা ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থান পিটিয়ে জখম করে। গুরুতর অবস্থায় শাফিনকে বেড়ি বাঁধের পাশে থাকা খালের কাঁদার মধ্যে ফেলে টেনে হেঁচড়ে পাশের আখ ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে রাখে এবং আখের পাতা দিয়ে লাশটি ঢেকে রেখে চলে যায়। পর দিন স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর লাশটি তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের হয়।
পাংশা থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তারা এ মামলায় জামাল মন্ডল, টিপু মুন্সি, তুহিন ও কানন নামে চার জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে গত বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া জেলার খোকশা উপজেলার আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য রুহুল আমিন প্রমাণিক ওরফে রুহুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার করে। আর রুহুল মেম্বারকে গ্রেপ্তার করার পরই বেড়িয়ে আসে ওই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য। সেই সাথে রুহুল মেম্বার আদালতে তার স্বীকারোক্তি মূলক জবাববন্দিও প্রদান করে। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আমবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সাত্তার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, ভাতিজা আরিফ মোল্লাসহ সবুজ, সাগর ও সুমনসহ ৮/১০ জনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

(Visited 301 times, 1 visits today)