লক্ষাধিক মানুষের দূর্ভোগ, গোয়ালন্দে পাকা সড়কে বাঁশের সাঁকো –

শামীম শেখ, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রধান সড়কটি পর পর গত দুই বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। পায়ে চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো দেয়া হলেও মালামাল পরিবহন ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা থেকে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত ইউনিয়নের প্রধান সড়কটির পূর্ব তেনাপচা এলাকায় ২০১৫ সালের বন্যায় প্রবল ¯্রােতে প্রায় ১০০ ফুট এলাকা ভেঙ্গে যায়। কাবিটা প্রকল্পের পৌনে ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মাটি দিয়ে ভাঙ্গা এলাকা মেরামত করা হলেও গত বন্যায় ওই স্থানটি আবারো ভেঙ্গে যায়। দ্বিতীয় বারের ভাঙনে সড়কটির সাথে সংযোগকারী আরেকটি ইটের রাস্তা ও কয়েকটি ভিটেবাড়ী ভাঙনের শিকার হয়। কিছুদিন খেয়া পারাপারের মাধ্যমে লোকজন চলাচল করার পর ইউপি চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার নিজ উদ্যোগে লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে সেখানে একটি বাঁশের মাচান সাঁকো তৈরী করেন।
সরেজমিন দেখা যায়, সাঁকোটির উপর দিয়ে লোকজন পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন। এ ছাড়া অটোরিক্সা, রিক্সা, ভ্যান, মোটর সাইকেল, সাইকেলের মতো হাল্কা যানবাহন চলাচল করছে। তবে সাঁকোটির স্থায়ীত্ব বিবেচনায় যাত্রীবাহী অটোরিক্সা ও ভারী মালবোঝাই ভ্যান চলাচল নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান। ফলে সাধারন যাত্রী, ব্যবসায়ী ও কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এলাকার লোকজন জানান,এই সড়কটির উপর অত্র ইউনিয়ন ও পাশ^বর্তী অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ চলাচলের জন্য নির্ভরশীল।
স্থানীয় বাসিন্দা আঃ রাজ্জাক, শামসুল হক দফাদার, সামাদ মোল্লা, রুবেল শেখসহ কয়েকজন জানান, এলাকাটি কৃষি প্রধান হিসেবে প্রচুর পরিমানে কৃষি পন্য উৎপাদন হয়। বর্তমানে প্রতিদিন শত শত মন শীতকালীন সব্জি এখান থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী হচ্ছে। স্থানীয় কাটাখালী বাজার ও আতর চেয়ারম্যানের বাজার হতে বেপারীরা কাচাঁমাল কিনে যথা স্থানে পৌঁছাতে বিপাকে পড়ছেন। সড়কটির মাঝামাঝি এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় ৭/৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে বেড়ি বাঁধ দিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে উঠতে হয়। এতে বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
এলাকার ইউপি সদস্য আজাদ মোল্লা জানান, দেবগ্রামের লোকজন ছাড়াও পাশ^বর্তী দৌলতদিয়া,ছোট ভাকলা, পাচুরিয়া ও বরাট ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় সাধারন মানুষ ছাড়াও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলে অনেক ভোগান্তি হচ্ছে।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতর আলী সরদার জানান, প্রথমবার ভাঙ্গনের পর মাটি ফেলে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। এলাকাটি নীচু বলে পাশের পদ্মা নদীর পানি বেড়ে ওখান দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়। এ জন্য সংস্কার না করে ওখানে একটি ব্রীজ করা অত্যন্ত জরুরী প্রয়োজন। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের নিকট আবেদন করেছি।

(Visited 31 times, 1 visits today)