প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ॥ রাজবাড়ীর ৭১১ হতদরিদ্র পরিবার পেল বসত ঘর –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

ঝড়ে ঘর ভেঙে যাওয়ার পর আর ঘর নির্মাণ করতে পারেননি পাংশা উপজেলার হাবাসপুরের গৃহবধূ সেলিনা বেগম। অভাবের সংসারে খাবারের ব্যবস্থা করাই যেখানে কষ্টকর, সেখানে নতুন করে ঘর নির্মাণ করা যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো।
নিজেদের জমি থাকা সত্ত্বেও টাকার অভাবে ঘর করতে না পেরে এক প্রতিবেশীর ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছে চার সদস্যের পরিবারটি। শুধু সেলিনা বেগম নন; রাজবাড়ী জেলায় এ রকম পরিবারের সংখ্যা অনেক। আর এসব পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতে নিয়েছেন ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্প। সেই প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর চার উপজেলায় ৭১১টি পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ঘরগুলো অসহায় পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জানা গেছে, জমি আছে ঘর নেই আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় রাজবাড়ীর পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ৭০টি, গোয়ালন্দে ৩২৭টি, বালিয়াকান্দিতে ১০৮টি ও পাংশায় ২০৬টি বসতঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলাগুলোর পাঁচ সদস্যের কমিটি। নিজ নিজ উপজেলায় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সদস্য হলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোর চেয়ারম্যানরা। রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের মধ্যে গৃহহীন মুক্তকরণের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেই ঘোষণারই বাস্তবায়ন চলছে। যেসব দরিদ্র পরিবারের জমি আছে অথচ টাকার অভাবে ঘর নির্মাণ করতে পারছে না সেসব পরিবারের জন্য ১৫ ফুট চওড়া ও সাড়ে ১৬ ফুট লম্বা ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ফ্লোর পাকা করা টিনের চালের ওই ঘরগুলোর সঙ্গে একটি করে বাথরুমও তৈরি করে দেওয়া হবে। পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি ঘরের জন্য এক লাখ টাকা করে তারা বরাদ্দ পেয়েছেন। টিন ও উন্নতমানের কাঠ দিয়ে এসব ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে হতদরিদ্র ও অন্যের ঘরে বাস করা পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করার পর তালিকা তৈরি করে তাদের জন্য ঘর তৈরি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু পরিবার নতুন ঘরে রাত্রি যাপন শুরু করে দিয়েছেন।
জেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চরবারকীপাড়া গ্রামের সিরাজের স্ত্রী ছালমা বেগম জানান, পাটকাঠির বেড়া দিয়ে কোনো রকমে তারা ঘর বানিয়ে থাকতেন। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ত আর শীতের দিনে হু হু করে ঢুকত হিম হাওয়া। কৃষিকাজে শ্রম বিক্রি করে চলে তাদের ছয় সদস্যের সংসার। সংসার চালাতেই তাঁদের হিমসিম খেতে হয়, সেখানে নতুন ঘর নির্মাণের কথা তারা কল্পনাও করতে পারছেন না। এরই মাঝে সরকারিভাবে তাদের জমিতে ঘর তৈরি হয়েছে। এতে তারা মহা খুশি। ঘর তৈরি করে দেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী কণা খাতুন জানায়, তাদের ঘর ছিল না বলে অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছে। সহপাঠীরা করেছে ঠাট্টা। এখন তাদের জায়গায় ঘর হচ্ছে। আনন্দে সে আটখানা। বালিয়াকান্দির ইসলামপুরের গৃহবধূ ফাতেমা বেগম জানান, কৃষিকাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালানোই দায়। প্রধানমন্ত্রী তাদের ঘরের ব্যবস্থা করেছেন শুনে তিনি খুবই আনন্দিত।
গোয়ালন্দের ইউএনও মো. আবু নাছার উদ্দিন বলেন, ঘরগুলোর নির্মাণকাজ কিছুদিনের মধ্যেই শেষ করে তা হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
তবে চাহিদার তুলনায় খুব কম ঘর নির্মাণের অভিযোগ এনেছেন সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আতাহার হোসেন তকদির, চন্দনী ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এম সিরাজুল আলম চৌধুরী, মূলঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মুসল্লী। তাঁরা জানান, তাঁদের ইউপিতে যে পরিমাণ গরিব, অসহায়, দুস্থ পরিবার আছে আরো বেশিসংখ্যক ঘর বরাদ্দ দেওয়ার দরকার ছিল। হতদরিদ্ররা ঘরের দাবি নিয়ে তাদের কাছে আসছে এবং তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী বলেন, ‘এটা প্রধানমন্ত্রীর একটি মহৎ উদ্যোগ। যেসব মানুষ কখনো চিন্তাও করতে পারেনি একটি ডোয়া পাকা সুন্দর ঘরের, সে মানুষগুলোর বাড়িতেই এখন সেই রকম একটি করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ’

(Visited 119 times, 1 visits today)