গোয়ালন্দে শিল্পকলায় গান বাঁজে না ! –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

গান বাঁজে না। নৃত্য হয় না। নাটক হয় না। হয় না কোন সাস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নেই কোন ছাত্র-ছাত্রী, নেই শিক্ষক। আছে ভবন। চেয়ার, টেবিল, মঞ্চ ও অফিস। নামে শিল্পকলা একাডেমী। এমন আজব এক শিল্পকলা একাডেমী অকেজো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চেয়ার, টেবিল সহ সকল প্রকার বাদ্য যন্ত্র অকেজো হয়ে পরে আছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ১৮ নভেম্বর তৎকালীন সংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা জাহারানা বেগম ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা শিল্পকলার নতুন ভবন উদ্বোধন করেন। লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে চেয়ার, টেবিল, হারমনিয়াম সহ সকল প্রকার বাদ্য যন্ত্র ক্রয় করা হয়। ছিল ছাত্রী-ছাত্রী। গানের শিক্ষক নজরুল ইসলাম কুটি। নাচের শিক্ষক লালন ও তবলার শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন আসাদুজ্জামান সেলিম। নিয়তমিত গান, নৃত্য প্রশিক্ষন দেওয়া হতো। হল রুমের ভাড়া ও ছাত্র-ছাত্রীদের বেতনের টাকা দিয়ে শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হতো। তবে বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার এক বছর পর সকল শিক্ষক শিল্পকলা একাডেমীতে আসা বন্ধ করে দেয়। শিল্পকলা একাডেমীর সকল ছাত্র-ছাত্রী বাধ্য হয়ে ইচ্ছা থাকার পরও সাংস্কৃতিক জগত থেকে বিছিন্ন হয়ে যায়।
এর পর থেকে শিল্পকলা একাডেমীতে কোন ছাত্রী-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি। নেই কোন শিক্ষক। ২০০১ সালের পর এই শিল্পকলা একাডেমীতে কোন শিক্ষক দেওয়া হয়নি। যে কারণে উপজেলার সাংস্কৃতিক প্রেমি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির ইচ্ছা থাকা শর্তেও শিল্পকলা একাডেমীতে ভর্তি হতে পারছেন না। বাদ্য যন্ত্র বাঁজে না। কোন শিল্পীর কণ্ঠে বাঁজে না গান। নাটকের শব্দও পাওয়া যায় না। হয় না কোন সভা সেমিনার। সুতরাং অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করে অনেকে নিজ উদ্যেগে গড়ে উঠা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করছে ছেলে-মেয়ে।
এই শিল্পকলা একাডেমীতে ছিল পরিচালনা কমিটি। কমিটির পদ অধিকার বলে সভাপতি গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার। সাধারন সম্পাদক ফকীর আঃ কাদের। সদস্য হিসেবে ছিলেন হাবিবুর রহমান হবি (স্যার), নির্মল চক্রবতী, বিশ্বনাথ বিশ্বাস, নিজাম উদ্দিন সেখ, আসাদুজ্জামান সেলিম, পনব ঘোষ, হেলাল মাহামুদ। দুই বছর মেয়াদীর পরিচালনা কমিটি থাকলেও ২০০১ সালের পর আর কোন নির্বাচন হয়নি। হয়নি কোন আলোচনা সভা।
দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার কারণে ব্যবহারের জন্য চেয়ার, টেবিল সহ সকল বাদ্য যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফাঁটল ধরেছে ভবনে। দেয়াল ও ছাদ থেকে সিমেন্ট ধসে পরছে। এই ভবনের দুইটি রুমে উপজেলা পাঠাগার এবং পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) নামের দুইটি সাইন বোর্ড আছে। তাছাড়া ভবনে মধ্যে কোন কাজ কর্ম হয় না।
গোয়ালন্দ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাধারন সম্পাদক ও তবলা শিক্ষক মোঃ আসাদুজ্জামান সেলিম বলেন, শিল্পকলা একাডেমী ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে হবে। সকল কক্ষ সংস্কার করতে হবে। নতুন পরিচালনা কমিটি করতে হবে। তবে রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করে। শিল্পকলা একাডেমী চালু থাকলে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড গতিশীল হবে। সমাজের অনেক অনাচার কমে আসবে। নতুন প্রজম্ম সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারন সম্পাদক ফকীর আঃ কাদের বলেন, স্থানীয় প্রশাসনিক যদি সহযোগিতা করে তাহলে শিল্পকলা একাডেমী সচল হবে। এলাকার ছাত্র-ছাত্রী সংগীত চর্চা করে ভাল শিল্পী হতে পারবে। বর্তমান নির্বাহী অফিসার নতুন এসেছে। যদি আমাদের সহযোগিতা চান অবশ্যই করবো। এর আগে যে সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসেছেন তারা শিল্পকলা একাডেমীর দিকে তেমন নজর দেন নাই। যে কারণে এই শিল্পকলা একাডেমী আজ পরিতেক্ত অবস্থায় আছে। এখানে কোন সংগীত চর্চা হয় না।
গোয়ালন্দ শিল্পকলা একাডেমী দীর্ঘদিন যাবৎ পরিতেক্তা অবস্থায় পরে আছে স্বীকার করে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবু নাসার উদ্দিন বলেন, গোয়ালন্দ শিল্প সাংস্কৃতিক মনা এবং রাজনৈতিক বৃন্দদের সাথে নিয়ে শিল্পকলা একাডেমীকে আবারো ঢেলে সাজানো যায় সে ব্যবস্থা আমরা করবো।

(Visited 41 times, 1 visits today)