পাঁচুরিয়ার রাব্বি হত্যার ১১ মাস পর হত্যাকারী সন্দেহে যুবক আটক –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

 

চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র রাব্বি শেখ (১৩) কে নৃসংশভাবে হত্যার পর পাটের জাগের নিচে লাশ রেখে গুমের ঘটনার ১১ মাস পর গত শুক্রবার রাতে হত্যাকারী সন্দেহে পালিয়ে থাকা যুবক বিল্লাল পাটোয়ারী (২০) কে আটক করেছে গ্রামবাসী। বিল্লাল রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের আন্ধার মানিক গ্রামের চান্দু প্রমাণিকের ছেলে।
নিহত রাবিব’র মামা সাহাদৎ মল্লিক জানান, রাব্বি হত্যাকান্ডের পর থেকে বিল্লাল পাটোয়ারী ছিলো অতœগোপনে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই তাকে এলাকায় ঘুরতে দেখেন স্থানীরা। তারা তাকে সে সময়ই আটক করে এবং বেঁধে রাখে। তারা আরো জানান, রাব্বি হত্যা হবার পর যে তিন জন ছেলে আতœগোপনে চলে যায় তার মধ্যে বিল্লাল একজন। অপর দুইজন হলো শাকিল ও রিয়াজ। তারা দু’জন এখনো আতœগোপনে রয়েছে।
এদিকে, খবর পেয়ে রাজবাড়ীর সিআইডি পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। গতকাল শনিবার বিকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জেলা সিআইডি’র এসআই শেখ শাহ আলম জানান, রাব্বি হত্যা মামলায় ইতোপূর্বে ইউসুফ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিগত বছরের ২৫ আগষ্ট ওই ঘটনায় রাজবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। নয় মাস ধরে মামলাটি রাজবাড়ীর সিআইডি পুলিশের কাছে ন্যাস্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ী জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের মরডাঙ্গা গ্রামে দূর্বৃত্তরা রাব্বিকে আঘাত ও স্বাসরোধে নৃশংস ভাবে হত্যার পর পুকুরের দেয়া পাট জাগের নিচে লাশ লুকিয়ে রাখে। ওই ঘটনার তিন দিন পর গত বছরের ২৫ আগষ্ট দুপুরে অর্ধগলিত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। রাব্বির অটো রিকশা চালক মামা জাহিদ মল্লিক বলেন, রাব্বিরা দুই ভাই বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দশ বছর পূর্বে তার বাবা মোহাম্মদ আলী সেখ মারা যান। এর পর থেকে তার বোন হাসিনা বেগম ছেলে রাব্বি ও মেয়ে মুক্তি খাতুনকে নিয়ে একই ইউনিয়নের গুপ্তমানিক গ্রামে থাকা তাদের বাড়ীতে এতে ওঠেন। তিন মাস আগে হাসিনা বেগম ছেলে ও মেয়েকে তাদের নানি সাহেদা বেগমের কাছে রেখে সৌদি আরবে যান। বর্তমানে হাসিনা বেগম সৌদি আরবেই চাকুরীরত অবস্থায় রয়েছেন। আর দুই মাস আগে মেয়ে মুক্তি খাতুনকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়। মুক্তি তার স্বামীর সাথে রাজধানী ঢাকায় থাকে। শিশু রাব্বি নানির কাখে থেকে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে।
রাব্বির আরেক মামা খোকন মল্লিক বলেন, নানিকে বলে রাব্বি বাড়ীর বাইরে যায়। এর পর থেকেই তাকে আর খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনার পর তারা নিকট স্বজনদের বাড়ীতে খোঁজ করা এবং এলাকায় মাইকিং করা পর্যন্ত করেন। তার পরও রাব্বির কোন সন্ধান তারা পাচ্ছিলেন না। নানা বাড়ী থেকে আধা কিলো মিটার দুরে থাকা জনৈক কাশেম পাটোয়ারীর পুকুরে দেয়া একটি পাট জাগের নিচে স্থানীয়রা রাব্বির লাশ দেখতে পান। এ সময় তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এবং লাশ সনাক্ত করেন। তবে কারা কি কারণে রাব্বিকে এমন নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে তা তিনি জানাতে পারেননি। তিনি এ ঘটনার হেতাদের খুজে দৃষ্টান্ত মূলক শান্তির দাবী জানান।

 

(Visited 687 times, 1 visits today)