গোয়ালন্দে ইউপি সদস্যের সংবাদ সম্মেলন –

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

goalundo-photo-3

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. জলিল ফকির এলাকার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন, পরিবারের নিরাপত্তার দাবি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে শনিবার গোয়ালন্দ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন দেশের সর্ববৃহত দৌলতদিয়া পতিতাপল্লী তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে অবস্থিত। এ পতিতাপল্লীর অন্যতম প্রভাবশালী তোফাজ্জাল হোসেন তপু। তিনি পল্লীর শীর্ষ নারী ও মাদক ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন ধরনের জুয়া চক্রের নিয়ন্ত্রনকারী। তার ছত্রছায়ায় লালমিয়া ও সাঈদের নেতৃত্বে পল্লীতে ৬৪ সদস্যের একটি কমিউনিটি পুলিশিং বাহিনী পতিতাপল্লীতে প্রবেশকারীদের কাছ থেকে ৪০ টাকার টিকিটের মাধ্যমে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া পল্লীতে বহুমুখী চাঁদাবাজি, দেশের বিভিন্ন এলাকা হতে মেয়ে শিশুদের পাচার করে এনে জোড়পূর্বক দেহব্যবসা করানো, শিশু পাচার, শিশু নির্যাতন, নারী হত্যা, নারী গুম, বিচারের নামে জরিমানা বানিজ্যসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি গত ৮ অক্টোবর ফরিদপুর র‌্যাব-৮ ক্যাম্পের অধিনায়ক বরাবর লিখিত ভাবে একটি আবেদন করেন। বিষয়টি তারা জানতে পারায় তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে জীবন যাপন করছেন।
বক্তব্যে তিনি আরো জানান, তাকে ফাঁসাতে চক্রটি থানার এক এসআইয়ের সহায়তায় পল্লীর ভিতরে থাকা তার স্ত্রীর নামের বাড়ি হতে গত ৯ অক্টোবর বিথি আক্তার (২৫) নামের এক পতিতাকে উদ্ধারের নাটক সাজায়। মুলত ওই বাড়িটি বন্ধ ও কোন ভাড়াটিয়া থাকে না। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ঝুমুর বেগমের বিরুদ্ধে হয়রানী মূলক মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিথি পুনরায় পল্লীর সিরাজ নামের অপর এক বাড়িওয়ালার বাড়িতে থেকে পতিতাবৃত্তি করছে। বিথি বিগত ৮/১০ বছর ধরে পল্লীর তপুর বাড়িসহ বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থেকে পতিতাবৃত্তি করে আসছে।
তিনি আরো জানান, গত ১ অক্টোবর দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তৈয়বুর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন তপু, সাইদ ও লালমিয়া কমান্ডার একটি জন্ম সনদের তদন্ত প্রতিবেদনে ভুয়া তথ্য লিখে এনে তার কাছ থেকে জোর পূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি স্বাক্ষর না করায় তাকে নানা ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। এ বিষয়েও তিনি থানায় সাধারন ডায়রী, জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ ও রাজবাড়ীর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
সম্মেলনে তিনি পতিতাপল্লীসহ এলাকার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নের স্বার্থে পল্লীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও পল্লী সংলগ্ন প্রতিটি আবাসিক হোটেলে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পল্লীর প্রত্যেক ভাড়াটিয়ার ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্র থানা পুলিশের নিকট সংরক্ষন, অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধ ও পল্লীতে রহস্যজনক ভাবে প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

(Visited 27 times, 1 visits today)