বালিয়াকান্দিতে দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরি করতে শেষ মুহূর্তে ব্যস্ত কারুশিল্পীরা-

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

rajbari-9

আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের আনাগোনা শরতের ফুল শিউলী আর শরতে ফোটে কাঁশ ফুল। সঙ্গে সাদা মেঘের ভেলায় চড়ে ছুটে আসে হিন্দু ধর্মালম্বীদের শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা। দুর্গা উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর বাংলাদেশে ত্রিশ হাজারের উপর পুজা মন্ডপ তৈরি হয়। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় উৎসব। দশমির দিন বিসর্জনের জন্য প্রতিমা বসানো হয় ষষ্ঠীর দিন অর্থাৎ চারদিন প্রতিমা পূজা মন্ডপে থাকে। কিন্তু সেই মহাযোজ্ঞ শুরু হয়ে যায় চার মাস আগে খুব একটা ঘটা করে। প্রথমত রথ যাত্রার প্রথম দিন প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করতে হয়। এটাই ঐতিহ্য। সঙ্গে প্রতিমা তৈরির শুরুতে প্রতিমাদের উদ্দেশ্যে পূজা দেওয়ার রীতি রয়েছে। এটায় আনুষ্ঠনিকতা। তার পর কাজ শুরু। রাজবাড়ী জেলার হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয়া দুর্গা পূজা উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছে প্রতিমা তৈরির কারু শিল্পীরা। শারদীয়া উৎসব এখনও ৩দিন বাকি থাকলেও কারুশিল্পীরা প্রতিমা গড়ার কাজে এগিয়ে চলেছে। জেলা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া উৎসবের আমেজ অগ্রীম বইতে শুরু করছে। আগামী ৭ই অক্টবর ইং বাংলা ২২শে আশ্বিন থেকে ৫দিন ব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পূজা শুরু হবে। স্থানীয় কারীগর ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা তৈরি করতে তারা এক প্রান্ত থেকে দেশের আরএক প্রান্তে চলে আসে। কারু শিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করতে প্রথমে বাঁশ, খড়, মাটি, কাঠ, সুতা ব্যবহার করে। তারপর শুকানোর পর রং দিয়ে আধুনিক রুপে রুপায়ীত করে তোলে কারুশিল্পীরা। প্রতিটি শারদীয়া দুর্গা উৎসবের জন্য মন্ডপে কাত্তিক, গণেশ, লক্ষী, সরস্বতী, দুর্গা, সর্প, মহিষ, সিংহ সহ নানা ধরণের আকর্ষণীয় প্রতিমা তৈরি করে থাকে মন্ডপে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাথে বহরপুর বাজারসহ বাজারের পার্শে মহেশ্বরী আঙ্গন সার্বজনীন পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে এসেছেন শ্রী জীবানন্দ দাস (পাগলা) ও চায়না রাণী দাস। তারা ছয়টি প্রতিমার কাজ এ বছর হাতে নিয়েছেন।
জীবানন্দ দাস জানান, “বাপদাদার পেশার কাজ করতে যেয়ে আজ এ পেশায় আমরা জড়িয়ে পড়েছি। তারা আরও জানান, বছরে বাকি সময়গুলো বিশ্বকর্মা, লক্ষী, স্বরসতী, গণেশসহ অর্ডারের কাজ করে থাকে। কিন্তু এ মৌসুমীতে বড় পূজার কাজ তৈরি করতে তাদের রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। একটু খাবারের সময় পর্যন্তও পাচ্ছেনা। দুর্গা প্রতিমা তৈরি করতে তারা এ বছর ৫০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে।
বহরপুর বাজারের মন্ডল ডেকোরেটর মালিক ফিরোজ মন্ডল জানান, শারদীয়া দুর্গা পূজা উপলক্ষে আধুনিক আলোক সজ্জার জন্য তাদের অগ্রিম ডেকোরেটরের কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিটি পুজার ডেকোরেটরের জন্য ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়ে থাকে। শারদীয়া দুর্গা পূজা উপলক্ষে ঢাক-ঢোল বাজনাদের চাহিদা বেড়ে গেছে। বালিয়াকান্দি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বিনয় চক্রবতী ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক শ্রী ভূলেন্দ্র নাথ রায় জানান, এবারে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ১৪৪টি পূজা মন্ডপে পূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আমাদের এই উপজেলার সকল পূজারী এবারে সুন্দরভাবে দূর্গা পূজা উদযাপন করতে পারবে বলে আশা করছি। বহরপুর ইউনিয়ন পুজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী কমল কান্তি সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী অলোক ঘোষ জানান, এ বছর বহরপুর ইউনিয়নে ভালো ভাবে শারদীয়া দূর্গা উৎসব উদ্যাপিত হবে এটা আমাদের আশা।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, পুজার জন্য র‌্যাব, পুলিশ, আনসার, সহ স্থানীয় লোকের সার্বিক সহযোগিতায় সর্বাত্বক সতর্ক অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নিয়োজিত থাকবেন। আমাদের উপজেলার চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাদের মোবাইল নাম্বার সব পূজা মন্ডপে দেওয়া হয়েছে। যেকোন পরিস্থিতি মোকারেলা করতে আমরা সব সময় কাজ করে যাব।

(Visited 171 times, 1 visits today)