“বাবা’র খোঁজ পেতে মানববন্ধনে অংশ নিলো দু’মাসের রাইয়ান”-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

0ed-1

নয় দিন আগে চরমপন্থীরা তুলে নিয়ে গেছে দুই মাসের শিশু রাইয়ান মিজির বাবা বাবলু মিজি (৩৩) কে। এর পর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বাবলু জীবিত না মৃত অবস্থায় রয়েছেন তাও কেউ বলতে পারছেন না। তার সন্ধান পেতে গতকাল রবিবার সকালে রাজবাড়ীর কুটি পাঁচুরিয়া গ্রামের বাজার সংলগ্ন সড়কে এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। ওই কর্মসূচীতে মা হালিমা বেগমের কোলে চড়ে অংশ নেয় শিশু রাইয়ান মিজি। সে সময় তার কান্না দেখে অনেকেরই চোখে জল চলে আসে। ওই কর্মসূচীতে রাইয়ান মিজির ছয় বছর বয়সী ভাই বাইজিত মিজি রাতুল, চতুর্থ শ্রেণীতে পড়–য়া বোন বাবলী আক্তার লামিয়া, দাদি জোহরা বেগম, দাদা সানাউল্লাহ মিজি, চাচা মিঠু মিজিও আসে। তাদের সকলের দাবী বাবলুকে তারা ফেরত চান।
সকাল ১১ টা থেকে বেলা সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ওই মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীতে রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া, পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর, নিখোঁজ বাবুলের মামা আব্দুল মান্নান হাওলাদার, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন। এতে এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ, শিশু, কিশোর ও স্থানীয় স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহণ করেন।
বাবুলের স্ত্রী হালিমা বেগম বলেন, তিনি এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন যাপন করছেন। তিনটি বাচ্চাই তার শিশু। এদের নিয়ে মুখের দিকে তিনি তাকাতে পারছেন না। দুধের শিশু রাইয়ান মিজি তার বাবাকে দেখলে কান্না থামিয়ে দিতো, হাঁসতো। এখনও তার ছোট্ট চোখ দু’টি বাবাকে খোজে। যদিও এখন কান্না শুরু করলে তার সে কান্না থামানোই হয় কষ্ট কর। তিনি আরো বলেন, ঘটনার পর দীর্ঘ নয় দিন পার হলেও তারা বাবুলের পাননি কোন খোঁজ। সে জীবিত না মৃত, না কি কোথাও আটকে রাখা হয়েছে তার কোন খবরই তারা জানেন না। তার দাবী যে ভাবেই হোক বাবুলের সন্ধান তারা পেতে চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার স্বামীর খোঁজটুকু অন্তত তাকে দেবে, এটাই কামনা।
বাবুলের ছোট ভাই মিঠু মিজি বলেন, তিনি ইতালি থাকেন। ভাইয়ের নিখোঁজ হবার খবর পেয়ে তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তার দাবী যাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেই কেবল বাবুলের সন্ধান পাওয়া সম্ভব।
মামলার বাদী ও বাবুলের বাবা সানাউল্লাহ মিজি বলেন, ছোট্ট শিশু রাইয়ানের মুখের দিতে তাকালে তিনি ধোয্যহারা হয়ে পড়েন। তার চোখ বেয়ে পানিও গড়িয়ে পরে। তিনি মনে করেন বাবুলের সন্ধান পাওয়াটা তাদের পরিবারের জন্য অত্যান্ত জরুরী।
রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া বলেন, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ী থানায় ১৭ জনকে চিহ্নিত করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার পর পরই চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদেরকে গত শুক্রবার চার দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সেই সাথে অন্যান্য আসামীদেরও গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। আসা করা হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যেই বাবুল মিজির সন্ধান তারা পাবেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, জেলা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের কোমরপাড়া গ্রামের ইউনুস গাজীর ছেলে রাজিব গাজি এবং তার মামা ও জেলা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের ছেলে মাসুদ সিকদার, জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রামের মোজাই সেখের ছেলে মাজনু সেখ, একই উপজেলার কাউজানি গ্রামের বকশি মোল্লার ছেলে নিফাজ মোল্লা।
উল্লেখ্য, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে জেলা সদরের পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের কুটিপাঁচুরিয়া গ্রামের ছানাউল্লা মিজির ছেলে এবং বিগত ইউপি নির্বাচনের একই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী বাবলু মিজির বাড়ীতে যায় জেলা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের আব্দুর রাজ্জাক সিকদারের ছেলে মাসুদ সিকদার। সে সময় মাসুদ সিকদার বাবুলকে জানান জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পদ্মার চরাঞ্চল কাটাখালী গ্রামের জনৈক হাবিবের বাড়ীতে তার ভাগিনা রাজিব গাজি ও রাজিবের বন্ধুর স্ত্রী বিথিকে স্থানীয় চরমপন্থীরা জিম্মি করেছে এবং তারা ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপনও দাবী করেছে। ওই কথা শোনার পর বাবুল একাই সেখানে যায় এবং চরমপন্থীদের তোপের মুখে পরে। চরমপন্থীরা বাবুলকে সে সময় জিম্মি করে ট্রলার যোগে পদ্মা নদীর মধ্য নিয়ে যায়। এর পর থেকেই বাবুলের পাওয়া যাচ্ছেনা কোন সন্ধান। যদিও চরমপন্থীরা রাজিব গাজিকে তাৎক্ষনিক ছেড়ে দিলেও রাজিবের বন্ধুর স্ত্রী বিথিকে আটককে রাখে। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বিথিরও পাওয়া যায়নি কোন খোঁজ। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী থানার এসআই এনসের আলীর ধারনা বিথিও চরমপন্থী দলের সদস্য। সে মূলত আতœগোপনে রয়েছে। তবে বাবুলকে খুজে পেতে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

(Visited 58 times, 1 visits today)