কালুখালীতে হাসপাতালে এসএসসি পরীক্ষার্থী-

রাজবাড়ী বার্তা ডট কম :

oi00uyt

 

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের পিটুনি খেয়ে টানা চার দিন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে একই বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া ছাত্র আশিক মোল্লা (১৫)। তাকে গত রবিবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আশিক একই উপজেলা মৃগী ইউনিয়নের বড় কলকলিয়া গ্রামের কৃষক জামাল মোল্লার ছেলে।
ওই ছাত্রের বাবা জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে আশিক পর পর তিন দিন স্কুলে যেতে পারেনি। সেই সাথে স্টাইল করে চুল কাটা এবং মোইলফোন ব্যবহারের অভিযোগ এনে গত বুধবার সকালে আশিককে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার অফিস রুমে ডেকে নিয়ে কান ধরে উঠ বস করায়। এক পর্যায়ে টেবিল ও চেয়ারের নিচে পৃথক ভাবে তার মাথা ঢুকিয়ে পিঠসহ পেছনের অংশে বেত দিয়ে এলাপাথারী পেটায়। ওই অবস্থায়ই বিকাল পর্যন্ত ক্লাস করিয়ে বাড়ীতে পাঠানো হয় আশিককে। তবে বাড়ীতে আসার পর পরই আশিক গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পরে। সে ব্যাথায় চিৎকার করার পাশাপাশি তার থুথু ও বমির সাথে রক্ত বের হতে থাকে। যে কারণে তাকে জেলার পাংশা উপজেলা শহরের মদিনা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে গতকাল রবিবার সকাল পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে পাশ্ববর্তী কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর সোহাগ ড্রাইগোনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
ওই ছাত্রের সাথে থাকা তার মামা ও জেলার পাংশা উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, এখনো থুথু ও বমি দিয়ে আশিকের রক্ত বের হচ্ছে। কুমারখালীর সোহাগ ড্রাইগোনেস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের চিকিৎসকের পরামর্শে একাধিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রদের শাসন করুক এটা আমিও চাই। তবে শাসনের মাত্র থাকা প্রয়োজন। এভাবে নির্দয়ভাবে শাসন করা উচিৎ নয়।
ওই ছাত্র জানায়, সে এখনও ভাল ভাবে কথা বলতে পারছে না। অসুস্থতার কারণে বইও পড়তে পারছে না। অথচ তার এসএসসি’র মডেল টেষ্ট পরীক্ষা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাজাহান আলী জানান, অনেক ক্ষেত্রেই ছাত্ররা বিদ্যালয়ে না এসে পাশ্ববর্তী বাজারের নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে এবং মোবাইল ফোনে নানা রকম ছবি দেখে। এসএসসি পরীক্ষার্থী আশিক মোল্লাও বিদ্যালয়ে না এসে ওই সব কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়। যে কারণে সে বিদ্যালয়ে আসলে তার মোবাইল ফোনটি আটক করা হয় এবং তা তার চাচার কাছে দিয়ে দেয়া হয়। তবে তিনি আশিককে মারপিট করেননি বলেও দাবী করেন। যদিও আশিক অসুস্থ্য অবস্থায় ক্লিনিকে ভর্তি থাকার সংবাদ তিনি পেয়েছেন। তবে তাকে সময়ের অভাবে দেখতে যেতে পারেনি বলেও তিনি জানান।

(Visited 54 times, 1 visits today)